আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি ।
১৯৫২ সালে আজকের দিনেই ঢাকায়,উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার বিরুদ্ধে এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে, আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশের নির্বিচার গুলিচালনায় সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, শফিউর সহ অনেক ছাত্র ও যুবক শহীদ হন। অসংখ্য মানুষ আহত হন।
এই মহান আন্দোলনই পরবর্তীকালে পূর্ব বাংলার মুক্তিযুদ্ধের সাংস্কৃতিক অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।
রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, অনেক প্রাণের বিনিময়ে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
যদিও নানা বিশ্বাসঘাতকতা, নানা চক্রান্তের কারণে ভাষা শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন পুরোপুরি সফল হয়নি।
বিপ্লবী, কমিউনিস্ট মুক্তিযোদ্ধারা যে স্বাধীন, জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, মুজিবুর রহমান ও তার আওয়ামী স্বৈরাচারী বাকশাল শাসন সেই স্বপ্নকে ধ্বংস করে দেয়।
পরবর্তীকালে, কখনও আওয়ামী লীগ অথবা বিএনপি-জামাত, কখনও বা এরশাদের জাতীয় পার্টি কিংবা ১/১১-র সেনা শাসনের সময়ে বাংলাদেশের জনগণকে স্বৈরাচারী শাসনের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের নেতৃত্বে জনগণের মুক্তির লড়াই জারী থেকেছে। কিন্তু স্বাধীন, জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা আজও তৈরী করা সম্ভব হয়নি।
গত বছর জুলাই মাসে ছাত্রছাত্রী ও শহুরে পেটি-বুর্জোয়াদের আন্দোলনের এবং তার ফলে আওয়ামী স্বৈরাচারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশ এক টালমাটাল সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াশীল ইসলামি মৌলবাদী শক্তি ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী রাজাকাররা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সারা দেশ জুড়ে চরম নৈরাজ্য তৈরী করেছে এরা। বাংলাদেশের প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, প্রকৃত বামপন্থী সংগঠন ও মানুষজন তাদের দুর্বল শক্তি নিয়েও এই অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর চেষ্টা করছে।
তবে ইতিহাস আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে বাংলাদেশের অধিকাংশ শ্রমিক-কৃষক মেহনতী জনগণ মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক। বারবার তাঁরা রাজাকারদের ফিরে আসার চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়েছেন। তাই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা যারা চালাচ্ছে তারা সফল হতে পারবে না বলেই আশা করা যায়।
তবুও অনেক দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়েও বাংলা ভাষার একমাত্র রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আজও টিকে আছে।
১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো তথা জাতিসঙ্ঘ ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
আজ শুধুমাত্র বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার লক্ষ্যে অঙ্গীকার গ্রহণের দিন নয়।
বাংলাদেশ, ভারত সহ পৃথিবীর যে কোনও দেশে, যে কোনও ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে শপথ গ্রহণের দিন।
তাহলেই একমাত্র ভাষা শহীদদের স্বপ্ন পূরণ হবে। তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতিদান আমরা দিতে পারবো।
আসুন, ভাষা আন্দোলনের মহান শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি । তাঁদের স্বপ্নকে সফল করার উদ্যোগ নিই।
২১শে ফেব্রুয়ারি দীর্ঘজীবী হোক।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস দীর্ঘজীবী হোক।
Send @ ৯৮৩০০১৩৯৬৭ w app
ReplyDelete