Skip to main content

Posts

লক্ষীর ভান্ডার - অনুদান বনাম অধিকার

নির্বাচন পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বহু প্রচারিত 'লক্ষীর ভান্ডার' প্রকল্পটি শুরু করে দিয়েছেন । রাজ্যের মহিলারা প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে পাবেন,  সরকারের কাছ থেকে । তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর মহিলারা পাবেন ১০০০ টাকা ।  সরকারি কর্মচারী বা পেনশনভোগীদের বাদ দিয়ে ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে প্রায় সব মহিলাই এই সুবিধা নিতে পারবেন ।    শেষ তথ্য পাওয়া অবধি  ১ কোটি ৮০ লক্ষেরও বেশী মহিলা এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন। সারা রাজ্য জুড়ে লক্ষীর ভান্ডারে নাম লেখানোর লাইনে বিশৃঙ্খলা, পদপিষ্ট হয়ে আহত হওয়ার ঘটনা, নিয়মিত সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে ।   যথারীতি রাজ্যের শাসক দল এবং বিরোধী দলগুলির মধ্যে এই নিয়ে তরজাও শুরু হয়ে গেছে।    বিরোধীরা দাবী করছেন,  রাজ্যের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা এতই খারাপ যে মহিলারা মাত্র ৫০০ টাকার জন্য ভিখারীর মতো হয়ে গেছেন ।  ভিক্ষার রাজনীতি করে জনগণের আনুগত্য কিনছে তৃণমূল । আবার শাসকদলের মতে, এই ধরনের সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনের হাল ফিরিয়ে দিয়েছে...

তালিবান কি আদৌ জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম করছে ?

আফগানিস্তানের তালিবান মূলত একটা সামন্ততান্ত্রিক শক্তি । পাশতুন অধ্যুষিত এলাকার বিভিন্ন উপজাতি গোষ্ঠী ও সামন্তপ্রভুরা হল এদের শ্রেণী ভিত্তি । যে উগ্র ইসলামি মৌলবাদী মতাদর্শে এরা বিশ্বাস  করেও সেটাও একটা সামন্ততান্ত্রিক মতাদর্শ ।  সেই তালিবান কী করে একটা দেশে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের নেতৃত্ব দিতে পারে ? আজকের পৃথিবীতে বুর্জোয়ারাও এত বেশী প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে গেছে যে কোনো উপনিবেশ বা আধা-উপনিবেশে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম নয় ।  কোথাও শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম হলে সেই দেশের জাতীয় বুর্জোয়াদের একটা অংশ তাতে অংশগ্রহণ করতে পারে বড়োজোর । ঐতিহাসিক বস্তুবাদ আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে সমাজ বিকাশের ইতিহাসে সামন্ততন্ত্রকে ধ্বংস করে পুঁজিবাদ এসেছে ।  পুঁজিবাদ পরবর্তীকালে প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে গেলেও সামন্ততন্ত্র সব সময়ই পুঁজিবাদের থেকে প্রতিক্রিয়াশীল থাকে ।  সেই কারণেই পুঁজিবাদের থেকে প্রগতিশীল শ্রমিক শ্রেণীর মতাদর্শ মার্কসবাদ দিয়েই তার বিরুদ্ধে লড়তে হয় ।  সামন্ততান্ত্রিক মতাদর্শ দিয়ে হয় না ।  ইতিহাসের চাকা উল্টোদিকে ঘোরে ন...

এই উপমহাদেশে তালিবানের ঠাঁই নেই

তালিবানের সাময়িক জয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুসলিম নামধারী কিছু মানুষের উল্লাস দেখে অনেকে মনে করছেন যে ভারত,  পাকিস্তান,  বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান হয়ত তালিবানের কট্টরপন্থী  ইসলামে বিশ্বাস করেন ।  তাকে সমর্থন করেন ।  এর থেকে বেশী ভুল ধারণা  আর কিছু হতে পারে না ।  উপমহাদেশের অধিকাংশ  ইসলাম ধর্মালম্বী মানুষই  উদারবাদী , নরমপন্থী সুফি ইসলামি ভাবধারায় বিশ্বাস করেন ।  তালিবান,  আইসিস,  আল কায়েদা ইত্যাদি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন অন্য ধর্মের মানুষের যত না অত্যাচার করে তার থেকে অনেক বেশী আক্রমণ নামিয়ে আনে সুফি ভাবধারায় বিশ্বাসী মানুষের ওপর ।  উপমহাদেশের অধিকাংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষও এই সব কট্টরপন্থীদের ঘৃণা ছাড়া আর কিছু করেন না ।  ২০১৭ সালে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে বিখ্যাত সুফি পীর  লাল শাহবাজ কলন্দরের দরগায় আইসিস'এর  বোমা বিস্ফোরণে ৯০ জনেরও বেশী মানুষ মারা যাওয়ার পর সারা পাকিস্তান জুড়ে যে রকম গণবিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল তা এর প্রমাণ ।  সেই কারণেই এত দিন ধরে সক্রিয় থেকেও তেহরিক-এ-তালিবান (পাকিস্তানি তালিবান)  পাকিস্তান...

ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানে নিম্নমানের ওষুধ !

মুষ্টিমেয় কয়েকটি  প্রচার মাধ্যমে খুব ছোট  আকারে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে । পশ্চিমবঙ্গ  সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের অধীনস্থ  'ডিরেক্টোরেট  ওফ ড্রাগ কন্ট্রোল'-এর নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা গেছে যে রাজ্যের বহু হাসপাতালের ন্যায্য মূল্যের দোকান বা ফেয়ার প্রাইস মেডিসিন স্টোরের বহু ওষুধ  নির্দিষ্ট  গুণমানের মাপকাঠি পেরোতে পারেনি ।  এর মধ্যে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মতো রাজ্যের সেরা ও ঐতিহ্যবাহী হাসপাতালও আছে । এছাড়াও কার্শিয়াং,  কালিম্পং থেকে শুরু করে বর্ধমান,  ডায়মন্ড হারবার সহ নানা জায়গার হাসপাতাল  ও সরকারী ড্রাগ স্টোর আছে । এই ড্রাগ স্টোরগুলি  থেকেই হাসপাতালের ভিতরে বিনামূল্যে ব্যবহারের ওষুধ সরবরাহ হয় ।  অনেক বড়ো খবরের ভিড়ে এই খবর হারিয়ে গেলেও  জনস্বাস্থের জায়গা থেকে এটি অত্যন্ত চিন্তাজনক ব্যাপার।  ২০১২-র   শেষদিক থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে এই ন্যায্য মূল্যের  দোকানগুলি চালু হতে শুরু করে ।  যে ওষুধগুলি হাসপাতালে বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে না ,  সেগুলি যাতে রোগীর আত্মীয়রা  কম খরচে কিনতে পারেন ,...

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা লুকোতেই কি লকডাউনের নাটক !

' বিধিনিষেধ'-এর নাম করে মে মাসের ১৫ তারিখ থেকে শুরু হওয়া লকডাউন পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৩১ জুলাই অবধি বাড়িয়ে দিয়েছেন । কোভিডের তৃতীয় তরঙ্গের ভ্রুকুটির পরিপ্রেক্ষিতে আরও কতদিন এই লকডাউন চলবে বা আরও বেশী কড়া ভাবে বলবৎ হবে কিনা তা বলা মুশকিল ।   ধীরে ধীরে বাস, অটো,  মেট্রো ইত্যাদি সর্বসাধারণের জন্য চলতে শুরু করলেও স্টাফ স্পেশাল ছাড়া নিয়মিত লোকাল ট্রেন চলতে দেওয়ার ব্যাপারে রাজ্য সরকারের তীব্র অনীহা ।  কলকাতার লাইফলাইন এই শহরতলীর লোকাল ট্রেন পরিষেবা বিঘ্নিত থাকায় শহরের জনজীবন ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত ।    কোভিড অতিমারীকে রোখার ক্ষেত্রে লকডাউন আদৌ কতটা কার্যকর তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছে ।    অবশ্যই এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে লকডাউন করে সাময়িকভাবে সংক্রমণের হার অনেকটাই কমিয়ে আনা যায় । কোভিড মূলত হাঁচি, কাশি, কথাবার্তা,  শ্বাসপ্রশ্বাসের  মাধ্যমে ছড়ায় ।  ফলে লকডাউন হলে , অধিকাংশ মানুষ ঘরে থাকায়,  একে অপরের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে ।  তার ফলে অসুখের ছড়িয়ে পড়ার গতিও কমে যাবে । কিন্তু এই অসুখ এত সংক্রামক যে সংক্রমণ...

কলকাতা শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থা কি ধ্বংসের মুখে ? -- (১)

দ্বিতীয়বারের জন্য দীর্ঘ লকডাউনের শেষে সরকার নিদান দিয়েছেন, বেসরকারী বাস পথে নামাতে ।  কিন্তু ভাড়া বৃদ্ধি না হলে বাস নামানো সম্ভব নয় বলে জেদ ধরে বসে আছেন বাস-মালিকেরা ।  মাঝখান থেকে জনগণের প্রাণ ওষ্ঠাগত ।  কিন্তু গণপরিবহনের এই সমস্যা একদিনে তৈরী হয়নি ।  কোভিড জনিত লকডাউনই এর একমাত্র  বা মূল কারণ নয় । গত বেশ কয়েক বছর ধরেই,  সরকারী উদাসীনতার কারণে, কলকাতা শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থা ধুঁকতে ধুঁকতে ক্রমশ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে ।  বামফ্রন্ট আমলের শেষদিক থেকেই বিভিন্ন সরকারী বাস রুট বন্ধ হয়ে যেতে থাকে । যে সব রুট চালু ছিল সেখানেও বাসের সংখ্যা কমে যায় , পরিষেবা অনিয়মিত হয়ে পড়ে ।  পরবর্তীকালে তৃণমূল আমলে JNNURM  প্রকল্পের টাকায় বেশ কিছু সরকারী বাস নামানো হয় ।  কিন্তু তার অধিকাংশই এয়ার কন্ডিশনড বাস । ভাড়া সাধারণ বাসের থেকে বেশ কয়েকগুণ বেশী ।  স্বভাবতই নিম্নবিত্ত  ও নিম্নমধ্যবিত্ত  মানুষ সেই বাসে চড়তে পারেন  না ।  অন্যদিকে বেসরকারী বাস ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই চরম অব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে চলছে ।  আমরা অনেকেই ছোটবেলা থেকে শুনে আ...

আমাদের কথা

 কলকাতা ও তার আশেপাশের এলাকার  শ্রমজীবি মানুষের নানা সমস্যা ও সংগ্রামের চিত্র  তুলে ধরার উদ্দেশ্যে ২০১২ সালে আমাদের  'আরেকটা কলকাতা' পত্রিকার পথ চলা শুরু । নানা প্রতিকুলতার মাঝে,  অনিয়মিতভাবে হলেও,  মুদ্রিত আকারে এই পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে ।   কলকাতা কেন্দ্রীক নানা বিষয়ের সঙ্গে শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে,  রাজ্য ও জাতীয় স্তরের এরকম নানা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক,  সামাজিক ও সাংস্কৃতিক  বিষয় সংক্রান্ত  খবর ও মতামত তুলে ধরাও আমাদের লক্ষ্য ।  আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি ।